মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, দাউদকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি (কুমিল্লা), ৩০ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর, জিংলাতলী, বারপাড়া, সুন্দরপুর, মালিগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কিছু সময় বৃষ্টি হওয়ার পর তা বন্ধ থাকে, আবার দুপুর কিংবা রাতের দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। এভাবে সারাদিন বিরতি দিয়ে দিয়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকছে। অনেক সময় এর সঙ্গে তীব্র দমকা হাওয়া ও ঝোড়ো বাতাস থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে।
এই অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকছে এবং তা দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ধানগাছ হেলে পড়ে পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত পানি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক পুকুর ও মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে মাছ ভেসে বের হয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এছাড়া, কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার কিছু বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক কৃষক জানান, “বৃষ্টি কিছুক্ষণ হয়, আবার বন্ধ থাকে। পরে আবার বাতাসসহ শুরু হয়। এতে জমির পানি নামতে পারছে না, ফসল নষ্ট হচ্ছে।” অপর এক মাছ চাষি বলেন, “ঝোড়ো হাওয়ায় ঘেরের বাঁধ টিকেনি, মাছ বের হয়ে গেছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, কৃষিঋণ সহজীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাছের ঘের রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।