ঢাকা, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ’র সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটের ওপর চাপ পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। অন্য সেবার সাথেও সাংঘর্ষিক হবে না।

ফ্যামিলি কার্ডকে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। এতে বরং মূল্যস্ফীতি কমবে। স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সবমিলিয়ে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক খরচ হবে। কৃষক কার্ডে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এটা অর্থনীতিকে কতটা সমৃদ্ধ করবে আর মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা আছে কি না হাসনাত আবদুল্লাহ’র এ প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

উত্তরের প্রথমেই হাসনাতের উদ্দেশে হাসির ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকায় নারীরা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, চেষ্টা করবেন তাদের ফ্যামিলি কার্ড দিতে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন কথায় পরক্ষণেই হেসে ফেলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

পরে ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পর্যাক্রমিকভাবে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে। পৃথিবীর কোন সরকারের পক্ষেই একবারে এটি করা সম্ভব না। এর জন্য প্রত্যেকটা ফ্যামিলির ডাটা কালেক্ট করতে হবে। প্রথম স্টেজে প্রান্তিক পরিবারকে আমরা এই কার্ডগুলো দেবো। কাজেই আমরা বাজেটটি তৈরি করব এবং কার্ড দেওয়ার সংখ্যাটা ধীরে ধীরে বাড়াবো। সেজন্যই আমরা এ ব্যাপারে যেসব হিসাব নিকাশ করেছি, তাতে বাজেটের ওপর চাপ পড়ার কোন কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যতগুলো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু আছে, তার মধ্যে অর্থের পরিমাণে ফ্যামিলি কার্ডে টাকার পরিমাণ বেশি। আমরা গবেষণা করে দেখেছি কয়েকটি সুবিধা একই ব্যক্তি পাচ্ছেন। সেগুলোকে আমরা কাটডাউন করব। সবগুলোকে কাটডাউন করব না। যেগুলোতে রিপিটেশন আছে সেটা কেবল কাটডাউন করব। এভাবে করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব।’

এসব সুবিধার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না। বরং এতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশে উৎপাদিত হয়। ফলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকাটা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যবহার হবে। স্থানীয় শিল্পায়নে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ। যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। তাই আমাদের হিসাব বলছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।