মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, দাউদকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি (কুমিল্লা), ২৯ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি, ঝড় ও দমকা হাওয়ার পর গ্রামাঞ্চলের ধানক্ষেতগুলোতে দেখা দিয়েছে এক ভিন্ন ও আকর্ষণীয় দৃশ্য। বিভিন্ন এলাকায় এখন ধানক্ষেতে ছোট-বড় নানা ধরনের মাছ ভেসে উঠেছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে এক আনন্দঘন পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে খাল-বিল, নদী ও পুকুরের পানি উপচে পড়ে আশেপাশের জমি ও ধানক্ষেতে ঢুকে যায়। এই পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে মলা মাছ, পুটি মাছ এবং নানা ধরনের ছোট গুড়া মাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় আবার মাঝারি আকারের মাছও ধরা পড়ছে।
ধানক্ষেতজুড়ে এখন যেন মাছ ধরার উৎসব। গ্রামের নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী এমনকি ছোট শিশুরাও দলে দলে নেমে পড়েছেন মাছ ধরতে। কেউ জাল ব্যবহার করছেন, কেউ আবার হাত দিয়ে বা ছোট পাত্র নিয়ে মাছ সংগ্রহ করছেন। বিকেলের দিকে এই দৃশ্য আরও জমজমাট হয়ে ওঠে, যখন সবাই দিনের কাজ শেষে ধানক্ষেতে নেমে পড়েন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এমন দৃশ্য অনেক বছর পর দেখলাম। ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু ধানক্ষেতে এত মাছ পাওয়া যাচ্ছে—এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।” আরেকজন জানান, “এখন প্রতিদিনই টাটকা মাছ খেতে পারছি, বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।”
তবে এই ঘটনার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে জলাশয়ের পানির স্তর বেড়ে গেলে মাছ স্বাভাবিকভাবে স্রোতের সঙ্গে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অনেক পুকুরের বাঁধ দুর্বল হওয়ায় পানি উপচে মাছ বেরিয়ে আসে। ঝড়ের কারণে অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়াও এর একটি বড় কারণ। পাশাপাশি, ধানক্ষেতগুলোতে জমে থাকা পানিও মাছের জন্য সাময়িক আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই আনন্দের মাঝেও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে মাছ চাষিদের মধ্যে। অনেক চাষি অভিযোগ করেছেন, তাদের পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল এক নিমিষেই হারিয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আংশিক মাছ উদ্ধার করতে পারলেও বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পুকুরের চারপাশে মজবুত বাঁধ নির্মাণ, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সতর্কতা গ্রহণ করলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, ঝড়-বৃষ্টির পর ধানক্ষেতে মাছ পাওয়ার এই ঘটনা গ্রামবাংলার মানুষের জীবনে একদিকে যেমন আনন্দ বয়ে এনেছে, অন্যদিকে মৎস্য খাতে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি করেছে। প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত রূপ মানুষকে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়ে যায়।