আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মাদারগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী হাটের বেহাল দশা; কোটি টাকার রাজস্ব, তবুও কাঁদা-পানিতে নাকাল ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ হাট থেকে প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও হাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকটে হাটটির করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

হাটে ধান কেনাবেচার জন্য বস্তা রাখার মতো নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো হাটজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, ফলে ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয়-বিক্রয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। একই অবস্থা গরু-ছাগলের হাটেও—কাদা মেখেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের লেনদেন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসানপুর গ্রামের আব্দুর রহমান, একবারপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও কাশিমপুরের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাটে গেলে কাপড়চোপড় কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হাটে আসা কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে বেচাকেনাও কমে যাচ্ছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরের পর বছর ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে হাটজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

হাটের ইজারাদার আহসান হাবিব প্রধান বলেন, “হাটে নির্মাণ কাজের জন্য মাত্র দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সংস্কারের জন্য যথেষ্ট নয়।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ মন্ডল জানান, ১৪২৮, ১৪২৯, ১৪৩১ ও ১৪৩২ অর্থবছরের হাট উন্নয়নের জন্য প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। তিনি বলেন, “মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি বারবার তোলা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে টাকা ছাড় হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ড্রেন সংস্কার, ধান ও গবাদিপশুর হাটে ইটের সলিংসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হতো।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুন বলেন, “সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান আমার দপ্তরে এসে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করলে বকেয়া অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাটের বর্তমান অবস্থার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঐতিহ্যবাহী এই হাট তার গুরুত্ব হারাতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।