ঢাকা, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন ও সহযোগীসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাকি আসামিরা হলেন- স্বপন কাজী, মো. শাওন হোসেন, ফারুক হোসেন সুমন, মো. লিটন মিয়া, মো. ফালান মিয়া ও মো. রুবেল।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মঈন, স্বপন ও শাওন তিনদিনের ও বাকি আসামিদের চারদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. ছাব্বির আহমেদ প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। মামলার পর মঈনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “সিকেডি হাসপাতালের কাছে মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা এই চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ হানিফকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন।
দরজা খুলে দিলে মঈন হানিফের স্ত্রীকে বলেন, চাঁদা-বাবদ এখনই ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন আসামিরা। হানিফের স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। এ সময় হানিফ হাসপাতালে থাকা তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই মনির বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০-৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকেন।
এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।