মোঃ তাজ উদ্দিন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, ১২ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দু’জনকে আটক করে তিনটি দুর্লভ পাথরের ভাস্কর্য জব্দ করেছে।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রতিবেশী দেশে মূল্যবান প্রতত্ববস্তু পাচারের চেষ্টা করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দিনাজপুরের বিরল ও বীরগঞ্জ উপজেলা এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সমন্বিত অভিযান চালায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে স্থানীয় পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর সহায়তায় ১১ এপ্রিল রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে বিরল উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সুমন চন্দ্র দেব এবং ঠাকুরগাঁও সদরের চ-ীপুর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল হাইকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ৯ দশমিক ৫৪ কেজি ওজনের বিষ্ণুর একটি দুর্লভ কালো পাথরের (কষ্টিপাথর) মূর্তি এবং ৪৫ দশমিক ৩৭ কেজি ওজনের শিবের একটি সাদা পাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বীরগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ৩৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের একটি পরিত্যক্ত কালো পাথরের মূর্তি জব্দ করে বিজিবি, যা শিবলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জব্দ করা প্রতœবস্তুগুলো প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরীক্ষা করে এগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রতœতাত্ত্বিক মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, এসব সামগ্রী সংরক্ষিত জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত। উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলোর আনুমানিক বাজেয়াপ্ত মূল্য ৬৬ লাখ টাকার বেশি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এসবের প্রকৃত মূল্য অপরিসীম।
আটক দুইজনকে জব্দকৃত সামগ্রীসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরাচালান- বিশেষ করে মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পাচার- রোধে বিজিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, মাদক ও মানব পাচার, অস্ত্র চোরাচালানসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।