ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার হুমকি দেওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরানও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকেও এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, সব পক্ষ যেন অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষ বন্ধ রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, পর্দার আড়ালে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি সম্ভাব্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রী শরিফ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই তিনি হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির এই দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে এবং বৃহত্তর শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলবে।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। ইরানের রাজধানী Tehranসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সেতু, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার দায় স্বীকার করেছে, যার ফলে ওই এলাকায় আগুন ও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া খার্গ দ্বীপ, আরাক ও মাহশাহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ইসরাইল ইরান-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ইরান মধ্য ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। বেসামরিক এলাকা ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি একটি বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।