আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু ; উদাসীনতা আর ভুঁয়া চিকিৎসকের দাপটে গ্রামজুড়ে কান্নার রোল,গরু পালনকারী কৃষক সর্বশান্ত।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গোবর্ধনপুর গ্রাম যেন আজ এক বিষাদভূমি। সবুজ মাঠের বুক চিরে ভেসে উঠছে হতাশার দীর্ঘশ্বাস! ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ছে নিরীহ পশুর প্রাণ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বেলাল মিয়ার পুত্র আপেল মিয়ার দুটি, মোস্তফা মিয়ার একটি গরু ইতোমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। গেন্দু শেখের পুত্রের দুটি ফ্রিজিয়ান গরুসহ আরও কয়েকটি গরু মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। অথচ এই বিপর্যয়ের সূচনা হয় একটি টিকার মাধ্যমে, যে টিকা দিয়েছেন কথিত এলএসপি হাসান মিয়া, তিনি ইতোমধ্যেই প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিকা দেওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই একটি গরু ছটফট করতে করতে মারা যায়। বাকিগুলোও মৃত্যুর ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন জাগে-কেন একজন বরখাস্ত ব্যক্তি এখনও চিকিৎসার নামে প্রাণ নিয়ে খেলা করতে পারে?

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন মিয়া তড়িঘড়ি করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করলে অনেক দেরিতে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্টরা। পরে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে চিকিৎসা দেন। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতির যে পাহাড় জমে গেছে, তার দায় কে নেবে?

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলুল কবির দায় এড়িয়ে বলেন, “ঘটনা শোনার সাথে সাথে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়-ঘটনার আগেই কেন এমন ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কেন মাঠপর্যায়ে নজরদারির অভাব?

গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইয়ামিন মিয়ার একটি গরুও একইভাবে এই হাসান নামের ব্যক্তির চিকিৎসা নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। ফলে এলাকাবাসীর মুখে একটাই কথা “হাসান কোনো চিকিৎসক নয়, সে একজন ভুয়া চিকিৎসক, প্রতারক !”

এই ঘটনা শুধু কয়েকটি গরুর মৃত্যু নয়, এটি দায়িত্বহীনতা, অবহেলা এবং প্রশাসনিক শিথিলতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রাণ বাঁচানোর কথা, সেখানে চলছে মৃত্যুর বাণিজ্য।

আজ গোবর্ধনপুরের আকাশে ভাসছে একটাই প্রশ্ন “কবে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবে এই অবহেলা?”
“কবে বন্ধ হবে ভুয়া চিকিৎসকের এই বিষাক্ত ছোবল?”