আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৩ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জে আখিরা নদী দখলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে নদী ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীঃরব ভূমিকা পালন করছে। উল্টো এই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককেই ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পীরগঞ্জ পৌরসভার থানার পশ্চিম পার্শ্বে সড়ক সংলগ্ন ব্রিজের পূর্বদিকে আখিরা নদীর অংশে মাটি ভরাট করে দখল কার্যক্রম চালানো হয়েছে। নদির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে সেখানে গ্রেড বিম দিয়ে স্থায়ী নির্মাণ করা হয়েছে এবং টিন দিয়ে ঘেরাও করে ব্যক্তিগত দখল নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর তীর সংরক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বসানো ব্লকও সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে শুধু নদীর অস্তিত্বই নয়, বরং আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকাশ্যে নদী দখল, সরকারি স্থাপনা অপসারণ, এমনকি সাংবাদিককে হুমকি—সবকিছুর পরও প্রশাসন নীরব কেন? তাহলে কি প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় প্রশাসন? সচেতন মহল বলছে, “আইনের শাসন যদি সবার জন্য সমান না হয়, তাহলে এ ধরনের দখলদারিত্ব আরও বাড়বে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নদী দখল অব্যাহত থাকলে অচিরেই আখিরা নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এবং সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়।

এলাকাবাসী দ্রুত দখল উচ্ছেদ, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিককে হুমকির ঘটনার তদন্তসহ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।