মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, ১৭ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গোমা সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে মানুষের ঘরে ফেরার এই সময়ে এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট হচ্ছে না, তাই এবারে সকল ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।
সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও আরামদায়কের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট হতে পারে এমন ২০৭ টি স্পটসহ প্রতিটি হাইওয়ে ও ব্রিজে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাই এখন পর্যন্ত কোন জায়গায় যানজট হচ্ছেনা এবং এটা একটা সুসংবাদ। কয়েকটি জায়গায় গতি ধীর হলেও গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে, নিরাপদ হবে এবং মানুষ মনে আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরবে।’
গোমা সেতু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ এ সেতু এ অঞ্চলের মানুষের জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এ সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া একটা জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ নিয়মিত ড্রেজিং করে সচল রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ১২শ কিলোমিটার নৌপথে খনন কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও সাড়ে ৪ হাজার মিটার নৌপথ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল নদীবন্দর পর্যন্ত নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর উপর গোমা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়।
এর মধ্যে সেতুর উচ্চতা নিয়ে জটিলতা ছিল অন্যতম, যা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জবাসীর স্বপ্নের গোমা সেতুর উদ্বোধন করা হলো।
সেতু উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচল শুরু হয়। রোজা রেখেও শত শত মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করেন। ঈদের আগে সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয়রা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।