তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ০১ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ​”পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, বিতর্কিত ‘শান্তি চুক্তি’ বাতিল এবং স্থানীয় পরিষদগুলোতে নির্বাচনের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। আজ রবিবার (১ মার্চ) রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।


​স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি গঠন করা।

আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং ‘ভাইস চেয়ারম্যান’ পদ সৃষ্টি করা।

প্রত্যাহারকৃত ২৪৯টি সেনাক্যাম্প পুনরায় স্থাপন করা এবং পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করা।

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তিকে ‘ঔপনিবেশিক ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা এবং ভূমি কমিশনে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সকল সম্প্রদায়ের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা।

​স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে জেলা পরিষদগুলো কোনো নির্বাচন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে জনবিচ্ছিন্নতা ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, গুম ও খুনের কারণে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

​স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিতিবৃন্দ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন,​কাজী মোঃ মজিবর রহমান, চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ,​শাব্বির আহম্মেদ, মহাসচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ,​শাহাদাত হোসেন কায়েশ, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ,​মোঃ নূর হোসেন, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ,​সালমা আহমেদ মৌ, সভানেত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ।
​স্মারকলিপিটির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সেনাবাহিনী প্রধান (জিওসি, ২৪ পদাতিক ডিভিশন) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে।

​পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করবেন বলে পিসিএনপি নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।