আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পীরগঞ্জের ৪৮ টি সচল ইটভাটা অবৈধ, নেই কোন লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। পরিবেশ ও প্রাণীকূল বিপর্যস্ত। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে কৃষিজমি ও জনবসতি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ইটভাটাগুলি। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি ভাটা ছাড়া বাকী সবগুলিতেই কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। উপজেলায় পরিচালিত ৪৮ টি ইটভাটার একটিরও নেই বৈধ লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব ইটভাটা চললেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব।
এমন নিষিদ্ধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে “জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা ” ও ” ঢাকা টিভি” সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে গত ৬ই জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে চিমনী ভেঙ্গে দেয়। উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের গংগারামপুরের হাসানুজ্জামান খান(ফারুক খান) এর ইটভাটা, ১২ নং ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে আনিছুর রহমানের ইটভাটা ও একই ইউনিয়নের গবরা কুতুবপুর গ্রামের ইছাহাক বাতেনের ইটভাটা।অভিযানের এক সপ্তাহের মধ্যেই ” ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়” ওইসব ইটভাটা বিকল্প চিমনি ব্যবহার করে আবার চালু করা হয়।সচেতন মহল মনে করেন এসব “আইওয়াশ”।অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসনের তথাকথিত “এলআর” ফান্ড বা বিশেষ তহবিলে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়েই ওই অবৈধ কারবার টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ফসলী জমি,পাহাড়, গবেষণাগার,সরকারি বন ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু পীরগঞ্জের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ ভাটা গড়ে উঠেছে তিন ফসলী জমির উপর। ধোঁয়া নির্গমণের জন্য নির্দিষ্ট উচ্চতায় চিমনী ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছেনা।ফলে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশেপাশের আম, কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ফলের বাগান এবং ধানক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ এসব ভাটা বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটা মালিক জানান, “পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া দীর্ঘমেয়াদী ও ঝামেলার বিষয়,তাই প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করেই আমরা ভাটা চালাই।”
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,ভাটার জন্য মাটির যোগান দিতে ফসলী জমির “টপ সয়েল” বা উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নির্গত ছাই ও ধোঁয়ার কারণে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকস্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠণের মতে, অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধ করা না হলে উপজেলা এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কোন ফান্ডের দোহাই না দিয়ে জনস্বার্থে এসব মৃত্যুফাঁদ গুড়িয়ে দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা প্রয়োজন।প্রশাসনের “ম্যানেজ” নীতিতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশ হুমকীতে পড়ছে।