ঢাকা, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কাঁচা বাজার ও আশেপাশে এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে ঢাকা ১৭ আসনের তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সাংবাদিকদের বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি এখন রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। সংস্কার ইস্যুতে আজ সারাদেশে যে আলোচনা ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তার উদ্যোক্তা বিএনপি।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ ভিশন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান ২৭ দফা ঘোষণা করেন। এরপর ছাত্রবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিমার্জন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে সেটি ৩১ দফায় পরিণত করা হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই ৩১ দফা গ্রহণ করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিএনপির এই উদ্যোগ একটি বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। অন্যান্য দলের নেতাদের প্রচারণায় জনগণের সাড়া বিএনপি তুলনায় কম। এতে বোঝা যায়, দেশের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, মানুষের অধিকার এবং বিশেষ করে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে জাতি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ আর নতুন করে প্রতিশ্রুতি চায় না। কারণ ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ইশতেহার থেকেই বিশেষ করে তরুণ, নারী, শিশু ও সমাজে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য বিএনপির কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট হবে। আগামী কয়েক দিনে মানুষ এতে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা–১৭ আসনের প্রসঙ্গে আলাল বলেন, এই এলাকায় সবচেয়ে প্রকট সমস্যা হলো যান চলাচলের জন্য প্রশস্ত স্থান ও শৃঙ্খলার অভাব। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের চাপ এখানে একটি বড় সমস্যা, যেখানে একদিকে বিত্তশালী মানুষের বসবাস, অন্যদিকে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীও রয়েছে। এই দুই শ্রেণির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আলাল বলেন, রমজান সামনে রেখে মানুষ এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ তীব্রভাবে অনুভব করছে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে প্রথমেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলমত নির্বিশেষে, এমনকি নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এমন প্রতিজ্ঞার কথাও জানান তিনি।
মাহফুজ কবির মুক্তার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রচার দলের সহ সভাপতি আজিজুস সামাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমা আক্তার স্বপ্না, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কবির হাসান মৃধা, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুবেল হৃদয় এবং সহ-অর্থ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতা রহমত উল্লাহ, আজমেনী, জাফর ইকবাল, কামাল উদ্দিন তারিকুজ্জামান সোহাগ, সেলিম খান, শামীম রেখা, আব্দুল বারেক শেখ, আসাদুল হক এবং মানিক মিয়া প্রমুখ।