টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ২২ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি জিয়ারত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব। দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় এরই মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন তিনি।

 

আজ দুপুরে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের মূল সমাধিস্থল এলাকায় যান হাবিব। তবে ভেতরে প্রবেশ করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে তিন নম্বর ফটকে দাঁড়িয়েই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কবর জিয়ারত করেন। সেখান থেকেই তিনি নিজের নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল মার্কার প্রচারণা শুরু করেন।

 

এরপর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান হাবিবুর রহমান হাবিব।

 

এর আগে তিনি গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সমাধিসৌধের ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি, তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।

 

নিজের রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে অনেক আগেই আমি বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।

 

দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি বর্তমানে কোনো দলেই নেই।

 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হাবিব আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেক রাজনীতিক সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে কেবল নিজের স্বার্থে রাজনীতি করেন। আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে চাই। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।