আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): প্রান্তিক খামারীদের জন্য উন্নত জাতের গবাদীপশু উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত হলেও কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেপুরে অবস্থিত বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনিল্যাবটি। সরকারের ১৩ কোটি ৫২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কেন্দ্রটি থেকে কোন প্রকার সুফল পাচ্ছেন না প্রান্তিক খামারীরা।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে ” কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন ” প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর ওই কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এখানে উন্নতমানের সিমেন সংগ্রহ,সংরক্ষণ,গবেষণা এবং ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের আওতায় অফিস কাম ল্যাবরেটরী,সিমেন কালেকশন শেড,বুল শেড,ফিড গোডাউন,বুল কাফ প্যান শেড এবং ৩০টি আইসোলেশন শেড নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ২২শে জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র একবার উন্নত সিমেন উৎপাদন ও সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ১১টি ষাড় আনা হলেও নিয়মিত কোন কার্যক্রম চালু না করে ষাড়গুলি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাভার ডেইরী ফার্ম কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নেই কোন ষাড়,নেই গবেষণা ও উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গত ৮ ও ১১ জানুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানটির তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে দেখা যায়, দু’একজন বুল এটেনডেন্ট অফিসের বাইরে খালি গায়ে রোদ পোহাচ্ছেন।ওই দুই দিনের একদিনও ইউনিট কাম মিনিল্যাব ইনচার্জ সাইন্টিফিক অফিসার জনাব ফেরদৌস হাসানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি এভাবেই দিনের পর দিন কর্মস্থলে না এসেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।ইতিপূর্বে ফোনে ইনচার্জকে পাওয়া না গেলেও
আজ ১৩ জানুয়ারি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের সাথে ইনচার্জ ফেরদৌস হাসানের কথা হলে তিনি জানান,
” ছয় মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং এর জন্য তিনি এখন ঢাকার পথে ” কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাণীসস্পদ বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই কোটি ডোজ সিমেন। এর মধ্যে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর উৎপাদন করে মাত্র ৫০ লাখ ডোজ,প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় ১০ লাখ ডোজের মত। বাকী চাহিদা পূরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও গুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিটটি পূর্ণমাত্রায় চালু করা গেলে দেশের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রান্তিক খামারীগণ উপকৃত হবেন।শুধুমাত্র দীর্ঘসূত্রিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম এখন প্রশ্নবিদ্ধ।