ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নেবে সরকার। তার অকাল মৃত্যুতে আগামী শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এদিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে শুক্রবার বাদ জুম্মা দেশের সব মসজিদে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক। দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে তার প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, সন্তান, পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
এই মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনও ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
তিনি আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদের এক আইকন। তার কর্ম ও সাহস দেশের তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল তার, যা অপূর্ণই থেকে গেল।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই শোকের মুহূর্তে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে, গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেয়া এবং ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে হবে।