ক্যাম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): শহিদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)র  কীর্তনখোলা হল- আজ রবিবার ( ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ) এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  এই সভায় বক্তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে সকাল ৮.৩০ মিনিট এ বরিশাল বধ্যভূমিতে  ( ত্রিশগোটাউন ) বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মিত পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

 

সভার প্রধান বক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বক্তব্যে বলেন, ”  দেশ  স্বাধীন হওয়া দুইদিন পূর্বে  একটা বিশেষ চক্রের অংশ হিসেবে দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের নির্মমভাবে বললতে তাদের  কারো চোখ তুলে নিয়ে কারো পিটিয়ে পিটিয়ে আত্যচার করে হত্যা করা হইছিলো এবং তাদের লাশ গুলো পাওয়া গেছে বিভিন্ন  জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো বিশেষ করে বধ্যভূমিতে পাওয়া গেছে। আর উদ্দেশ্য ছিলো দেশকে মেধাশূন্য করে দেওয়া।  প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি হয়  ১৯৬৯ রাবির শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা আবার শেষ এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  বিভিন্ন  আধ্যপক, চিকিৎসক,প্রকৌশলী, সাহিত্যকদের হত্যা করেন।  যারা এইদিনে আত্নত্যাগ করেছেন  আমাদের জন্য একটা সুন্দর বাংলাদেশ রেখে গেছেন তার প্রতি আত্নর মাগফিরাত কামনা করি। তাদের পরিবারের যেন সুষ্ঠু সুন্দরভাবে চলতে পারে সেই  দোয়া করি। সেই সাথে এই বুদ্ধিজীবিদের আত্মীত্যাগ কে নিজেদের  মধ্যে ধারন করে  আমার সেই পথে এগিয়ে যাবো।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়  বিজ্ঞান অনুষদের ডিন  ড. ধীমান কুমার রায়।  তার  বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়  এই প্রোগ্রাম মাধ্যমে দিয়ে আমাদের নৈতিক ও একাডেমি দায়িত্ব থেকে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর যারা জীবন দিয়ে গেছেন তাদের কে আমার নত জানাই এবং শ্রদ্ধা জানাই।  তাদের এই জীবন ত্যাগ আমাদেরকে সবসময় অন্তরিক করে আমাদের কে ব্যাক্ত করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধটা না হয়ে আজ ২০২৫ সালে হতো তাহলে  আমি হতো স্বীকার হতাম আপনি তার স্কীকার হতেন। আজ হতো আপনাকে আমাকে জীবন দিতে হতো। কিন্তু আজকে এই দিনে যারা জীবন দিয়ে গেছেন তাদের পরিবারের পরিজন রেখে গেছেন আমার তাদের প্রতি অন্তত শ্রদ্ধা দেওয়া উচিত। আমাদের শুধু মৌখিক শ্রদ্ধা না,  আমাদের  রিদয় শ্রদ্ধা হওয়া উচিত।

 

অন্যান্য আলোচকবৃন্দ, যাদের মধ্যে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সাব রেজিষ্টার ও প্রক্টর ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা ছিলেন। তাঁরা শহিদ অধ্যাপক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের মহত্ত্ব তুলে ধরেন  এবং বুদ্ধিজীবিদের আমরা  শুধু এই একদিন স্মরণ করবো না ; সরকার ও আমাদের পুরো জাতি উচিত তাদের পরিবারের খোঁজ নিয়ে তাদের বতর্মান অবস্থা জেনে তাদের পাশে থাকা  । তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই আত্মত্যাগই ছিল জাতির স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম ভিত্তি।