তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ২৪ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিমল কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ তাদের নিজস্ব আইন ও প্রবিধানমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পরীক্ষার দিন ধার্য করে। তবে, ১০ নভেম্বর ‘কোটা বিরোধী ঐক্য জোট’ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ২৩ জুলাই ২০২৪-এর সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে। এই দাবির প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ১৪ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত করেন।
পরবর্তীতে পুনরায় ২২ নভেম্বর পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলে, আন্দোলনকারীরা ২০ ও ২১ নভেম্বর হরতালের ডাক দেয়। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কায় জেলা পরিষদ ২০ নভেম্বরের পরীক্ষাও স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
আঞ্চলিক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ১৯০০ সালের শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে বিশেষ আইনে পরিচালিত হয়। পার্বত্য চুক্তির ১৮ অনুচ্ছেদ এবং জেলা পরিষদ আইন (১৯৮৯) অনুযায়ী, এখানকার চাকরিতে উপজাতীয় ও স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের বিধান রয়েছে।
পরিষদ দাবি করে, সরকার সাধারণ কোটা ব্যবস্থার যে সংস্কার (৯৩% মেধা) করেছে, তা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ২০১৩ সালের ২৭ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও এই মর্মে বিধান বর্ণিত হয়েছিল যে, এই অঞ্চলের চাকরিতে জেলা পরিষদের নিজস্ব আইন ও চুক্তির বিধান বলবৎ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৮ ও ৯ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে ঢাকায় রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যের বৈঠক হয়। বৈঠকে বিধি মোতাবেক দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে, কোটা সংস্কারপন্থীদের আন্দোলনের মুখে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায়, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আশা প্রকাশ করে যে, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নিয়োগের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান (অনুচ্ছেদ ১৮) এবং জেলা পরিষদ আইনের ধারাগুলো সমুন্নত রাখা হবে। সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জনস্বার্থে যথাযথ পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।