আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২০ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়ায় বালু লুটের ও উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। জনমনে প্রশ্ন? প্রশাসন কি তবে এ উৎসবের অতিথি ?
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং টুকুরিয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদী এখন যেন উৎসবের মঞ্চ, পটভূমি। যেখানে নদীর বুক চিরে বালু লুটের মহােৎসব চলছে দিনের আলোয়, রাতের আঁধারে। বোয়ালমারী গ্রামের করতোয়া তীর আজ ড্রেজার মেশিনের গর্জনে কেঁপে ওঠে নিয়মিত। স্থানীয় আমিনুল ও আনোয়ার নামের দুই ব্যক্তি যেন নদীর বালু নয়— পুরো নদিটাকেই নিজের সম্পত্তি ভেবে বালু তুলছেন অদৃশ্য শক্তি নিয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর বুকে কাটা ক্ষত থেকে বালু তোলা হচ্ছে ঢাউস পরিমাণে;
পাড়ে সাজানো পাহাড়সম স্তুপ।
মহেন্দ্র, ট্রলি আর ট্রাকের বহর—
দিন-রাত থেমে নেই ‘’পাচারের’’ মহাযাত্রা।
নদীর গতিপথ বদলে যেতে বসেছে,
কিন্তু প্রশাসন যেন দেখেও দেখে না—
শোনা যায় না কোনো হুইসেল, দেখা যায় না কোনো অভিযান।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও গ্রামবাসীর আক্ষেপ—
“করতোয়ার বুক ফেটে যাচ্ছে,
পাড় ধসে পড়ছে, বাড়িঘর নদীতে বিলীন হচ্ছে
তবুও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নীরব !
নদী মরুক, মানুষ হারিয়ে যাক—তবু যেন কারো কিছুই যায় আসে না।”
ফসলি জমিতে ভাঙন, রাস্তাঘাটে ভারী গাড়ির চাপে দুঃসহ দুর্দশা—সবকিছু মিলিয়ে করতোয়া যেন মৃত্যুপ্রহর গুনছে।
তবুও প্রশ্ন জাগে—
এভাবে লাগামহীন বালু উত্তোলন চলতে দিলে
নদী রক্ষা কারা করবে?
প্রশাসন কি সত্যিই অদৃশ্য,
না কি ‘উৎসবের বিশেষ অতিথি’?
এলাকাবাসীর দাবির সুর তীব্র—করতোয়ার বুকে নিপাতিত হওয়া এই লুট উৎসব বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন। না হলে ইতিহাস একদিন প্রশ্ন তুলবেই— করতোয়া মরছিল, আর প্রশাসন কি তখন ঘুমিয়ে ছিল?