এইচ এম আবু বকর সিদ্দিক-বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি (পটুয়াখালী), ১৪ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পটুয়াখালীর বাউফলের রামনগর তাঁতেরকাঠী ছালেহীয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চরম সংকট, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিয়মিততা ও আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের দুই অফিস সহকারী গত আগস্ট মাস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

 

সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার এ চিত্র দেখা যায়। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো: নুরুল আমিন জানান অফিস সহকারী বাবুল হোসেন ও মো: হাসান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি রাজনৈতিক ঘটনার বিষয় নিয়ে পরবর্তী সময় থেকে মাদ্রাসায় আসছেন না। এবং তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ (সাসপেন্ড) কিংবা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

অফিস সহকারীদ্বয়ের বেতন-ভাতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো: নুরুল আমিন স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

শিক্ষকদের উপস্থিতি সংক্রান্ত হিসাবেও রয়েছে গরমিল। প্রধান শিক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, মাদ্রাসাটির নথিপত্রে (খাতাকলমে) শিক্ষকের সংখ্যা ১২ জন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাত্র ৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

 

একইভাবে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। প্রধান শিক্ষকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে ক্লাসরুমে মাত্র ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

 

মাদ্রাসাটির সামগ্রিক পরিচালনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিততা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির নিম্নহার এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত এই অবস্থার উন্নতি এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।