ঢাকা, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।

 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এর মাধ্যমে ভোটার বিভ্রান্ত হবে এবং সংকট তৈরি হবে। এই সংকট নিরসনের জন্যই জামায়াতসহ আটটি সমমনা দল দাবি করে আসছিল যে গণভোট হবে নির্বাচনের আগে। অথচ আজকের ঘোষণার পর সেই সংকট থেকেই গেল।’

 

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’

 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘গণভোটের ব্যালটে কি থাকবে আর থাকবে না, তা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা কিছু বিষয় জানিয়েছেন। সেটি নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন। এরপর আরও বিস্তারিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম বহাল থাকবে। ১৬ নভেম্বর দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে ৮ দল সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া জানাবে।’

 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট হবে।

 

একই সঙ্গে তিনি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথাও জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।’

 

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।’