আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০২ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নতুন করে একের পর এক ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। পূর্বের স্থাপিত ইটভাটাগুলোর দূষণ এখনও সহনীয় মাত্রায় না পৌঁছাতেই চারপাশে নতুন নতুন ইটভাটা তৈরীর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো, কৃষি জমি দখল, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং ঘণকালো ধোঁয়ার দূষণে সমগ্র জনপদ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের অধিকাংশ ইটভাটাগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, কালোধোঁয়া ও ধুলোবালিতে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকস্ট, কাঁশি, চোখের জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জিতে ভুগছে। বয়স্ক মানুষদের মধ্যে হাঁপানী, ফুসফুসের রোগ ও হৃদরোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব ইটভাটার কারণে মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে ও ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। আর পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণী হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে একাধিক ইটভাটা মালিক জানিয়েছেন, তাঁরা হাইকোর্টে একটি রীট করেছেন এবং সে রীটের শুনানী এখনও হয়নি, সেই অজুহাতেই তাঁরা নতুন ইটভাটা নির্মাণ ও ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের কেউই বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে, এলাকাবাসী আশংকা করছেন,অচিরেই পীরগঞ্জের কৃষি, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

 

পীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ও দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করা হোক। যাতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশে বাঁচতে পারে।