শুকুর আলী-দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ), ২৫ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত ইসকনের বিতর্কিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাওহিদী জনতার উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) বাদ আসর দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা মারকাজ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশে স্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামপ্রেমী জনতা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শত শত সাধারণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন মুফতি মতিউর রহমান মাহদি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন টেংরাটিলা মারকাজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা বদিউজ্জামান মুরাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, কারী খলিলুর রহমান মিশকাত, হাফেজ মাওলানা হাফিজ ইদ্দিন, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা সাদিকুর রহমান, মাওলানা সোহাইল আহমদ, হাফেজ নিজাম উদ্দিন, মুফতি মুহিবুর রহমান, মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা আমির হুসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টেংরাটিলা বাজার কমিটির সভাপতি মুসকুত আলী, ব্যবসায়ী সালমান হুসেন, কাওসার উদ্দিন, আনোয়ার হুসেন প্রমুখ।
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, ইসকন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তারা বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ; এখানে কোনো উগ্রবাদী বা সাম্প্রদায়িক সংগঠনের স্থান নেই।
মিছিল চলাকালে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে “ইসকনের উগ্রতা বন্ধ করো”, “ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করো”, “বাংলাদেশে উগ্রতার ঠাঁই নেই”— এমন স্লোগানে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মতিউর রহমান মাহদি বলেন, “আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, কিন্তু ধর্মের নামে কেউ যদি উগ্রতা ছড়ায়, ইসলাম ও মুসলমানদের অবমাননা করে, আমরা তা মেনে নেব না। ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে অন্যের ধর্মে আঘাত করা নয়। ইসকন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে, তাই সরকারকে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সংগঠন বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। প্রশাসনের উচিত তাদের অর্থের উৎস, জমির মালিকানা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা যাচাই করা।”
সমাবেশে বক্তারা ইসকনের কার্যক্রম বন্ধে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে— সংগঠনের উগ্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ, বিদেশি অর্থায়নের তদন্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিরোধী অপপ্রচারকারীদের শাস্তি, জাতীয় সম্প্রীতি কমিশন গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের ক্ষতিপূরণ ও দেশের ধর্মীয় ঐক্য রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ।
বক্তারা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম; কিন্তু কিছু সংগঠন ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতি ধ্বংস করছে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়।
তরুণ বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ একে অপরের ধর্মকে সম্মান করে, কিন্তু কিছু গোষ্ঠী ধর্মের নামে ঘৃণা ছড়িয়ে বিদেশি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এখনই শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।”
প্রতিবাদ শেষে সুরমা ইউনিয়নের ইসলামপ্রেমী জনতা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল সমাপ্ত ঘোষণা করেন। আয়োজকরা সাংবাদিকদের জানান, তাদের উদ্দেশ্য কোনো সংঘাত নয়; বরং দেশের শান্তি, ঐক্য ও ধর্মীয় সহাবস্থান রক্ষা করা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসরের আগেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ দলে দলে টেংরাটিলা মারকাজ মসজিদে জড়ো হন। স্থানীয় এক প্রবীণ আলেম বলেন, “বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। কিন্তু যদি কেউ এই সম্প্রীতিতে আঘাত হানে, আমরা রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাবো।”