শুকুর আলী-দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ), ১৯ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় উরুরগাঁও দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র আব্দুল আমীন তৃতীয় স্থান অর্জন করে সবাইকে গর্বিত করেছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত আল মদীনা হিফজুল কুরআন একাডেমি প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার অসংখ্য ছাত্র অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতের শুদ্ধতা, সাবলীলতা, সুর, উচ্চারণ ও মুখস্থ পাঠের নির্ভুলতার ওপর ভিত্তি করে বিচারকরা মূল্যায়ন করেন এবং সর্বোত্তম পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে একে একে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্ররা।
বিচারক মণ্ডলীর মধ্যে ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ক্বারি ও ইসলামি শিক্ষাবিদগণ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার, সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান আল মদীনা হিফজুল কুরআন একাডেমির শিক্ষকবৃন্দ।
উরুরগাঁও দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুল আমীন ৩য় স্থান অর্জন করায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আক্তার হুসেন বলেন, আমাদের ছাত্র আব্দুল আমীন কুরআনের প্রতি যে একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা তার জন্য দোয়া করি, যেন ভবিষ্যতে সে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুরআনের খেদমতে অবদান রাখতে পারে।”
প্রতিযোগিতায় উপস্থিত অতিথিরা বলেন, এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৎ চরিত্র, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটে।
স্থানীয় এলাকাবাসীও আব্দুল আমীনের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেন, “গ্রামাঞ্চলের একটি মাদ্রাসা থেকে উঠে এসে বড় প্রতিযোগিতায় স্থান পাওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক বিষয়। তার মতো আরও শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে এই সাফল্য।”
আব্দুল আমীনের এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো উরুরগাঁও ও দোয়ারাবাজারের জন্য গর্বের একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসী আশাবাদী, এই ক্ষুদে হাফেজ ভবিষ্যতে কুরআনের আলো ছড়িয়ে সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে ইনশাআল্লাহ।