ঢাকা, ০১ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজহার শফিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নতুন করে রাজনীতিতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আইন-আদালত বা সরকার নয়, সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ। গণহত্যাকারী, গুম-খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

 

ডা. জাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য সোচ্চার বিএনপি। যারা গণহত্যার আদেশ দিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিএনপি বারবার বলেছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত কথা বলে কিন্তু তাদের ২৪-এর গণহত্যা নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই। আয়নাঘর, লুটপাট, প্রতিহিংসাপরায়ণ যারা করেছে, দিনের ভোট রাতে করেছে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তাদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের নিঃশর্তভাবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তাদেরকে ক্ষমা করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।

 

শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাহিদ বলেন, বিএনপি ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনকারী শক্তির যে ঐক্য হয়েছিল, যদি ভয়ে ভীত হতো তবে শেখ হাসিনা পালাতেন না। সত্যিকার রাজনীতিবিদ হলে তিনি মাঠের রাজনীতি করতেন, হয়তো জেলে যেতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি অন্যায় করেছেন।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটি সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা চাই সেটা হোক। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সেই সুযোগ আসুক।

 

তিনি আরো বলেন, আমাদের ভাবতে হবে, সমাজটা সবার। এই ভাবনাটা যদি না আসে তাহলে কিন্তু ইনক্লুসিভনেস তৈরি হবে না। আর তা তৈরি না হলে সমাজে সাস্টেনেবিলিটি আসবে না। সমাজের প্রবীণ মানুষদের জন্য আলাদা উইন্ডো তৈরি করার জন্য একটা চিন্তা দরকার। তাদের জন্য সামান্য বাজেট রাখা দরকার। প্রবীণরা যেন সমাজের বোঝা না হয়, সেই বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। তারা যেন সম্মানের সাথে সমাজে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।

 

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফর বাংলাদেশ মোহাম্মদ মশিহুর রহমান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, আজহার শফিক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।