ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবের পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির ইন্ধন ছিল না।

 

এই মামলায় পলাতক তিন আসামির একজন শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরা করেন নাহিদ ইসলামকে।

 

জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি শক্তির ইন্ধন ছিল বিধায় অধ্যাপক ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এই কথা সত্য নয়।’ নাহিদ ইসলাম ছিলেন মামলার ৪৭তম সাক্ষী। তার জবানবন্দি ও জেরা পর্ব আজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের মুখে পড়ে। নাহিদ ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সেদিন পদত্যাগ করেন এবং বাধ্য হয়ে ভারতে চলে যান।’

 

এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

নাহিদ ইসলামের ভাষ্যমতে, সরকার পতনের আগে থেকেই তারা বিকল্প সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, এই প্রস্তাবের পেছনে কোনো গোপন ইন্ধন ছিল না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

 

এই মামলায় আসামি করা হয়েছে— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (পলাতক), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে (পলাতক) এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতিমধ্যে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা শুধু ব্যক্তির দায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাজনৈতিক অপরাধ। তাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বিচারের আওতায় আনা উচিত।’

 

তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে দাবি জানান, দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয়ভাবে সংগঠিত এই অপরাধে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে অভিযুক্ত করা হোক।

 

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কিছু বক্তব্যে আপত্তি জানানো হলেও ট্রাইব্যুনাল তা প্রাসঙ্গিক বলে মত দেন।