ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “যারা আপনার ঘোষিত ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে বানচাল করার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা এখন এখান (জাতীয় প্রেস ক্লাব) থেকে মাত্র ৫০০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছে—অর্থাৎ তারা আপনার একেবারে কাছাকাছি রয়েছে।”
ফারুক বলেন, “হাসিনা এবং তার মেয়ে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেই সঙ্গে যিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন, সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দিল্লিতে রয়েছেন। আজ যারা আমাদের রক্ত ঝরিয়ে, বাংলাদেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে—তাদের মধ্যে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের কাউকে এখনো সরকার গ্রেফতার করতে পারেনি। সচিবালয়ে এখনো আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা ঘোরাফেরা করছে।”
ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “আপনার নির্বাচন বানচাল করার জন্য যারা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা আপনার আশপাশেই রয়েছে। আপনি যদি সচেতন না হন, তাহলে এই নির্বাচন আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রধান ইতোমধ্যে কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু যখন আমরা নির্বাচনের ট্রেনে উঠলাম, আপনি ম্যাপ ঘোষণা করলেন—তখনই দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা আবারও দ্রুত গতিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে তারা আপনার নির্বাচন বানচাল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে যারা গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, হয়তো কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমি তাদের কাছে আবেদন জানাবো—বাংলাদেশকে ভালোবাসুন, দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। হাসিনার মতো ভণ্ডামি করে নয়, আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমার নেতা তারেক রহমান পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন— ‘আমার ভোট আমি দেব, সেই ভোটে যদি জয়লাভ করতে পারি, তাহলে যারা ১৬ বছর আমাদের নির্যাতন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।’”
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ যেমন সততা, আপসহীনতা এবং দেশপ্রেমের জন্য ভালোবেসেছে, তেমনি গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের যেভাবে উজ্জীবিত করে রেখেছেন তারেক রহমান—সেজন্য আজ মানুষ তাকেও ভালোবাসে, তার পাশে আছে।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, অপরাজেয় বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব বাদল সরকার, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন সিরাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।