ঢাকা, ৩০ আগষ্ট ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মাথায় আঘাত লেগেছে। এছাড়া নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ শনিবার সকালে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, নুরের চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নুরুল হক নুরকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এসময় নুর রক্তাক্ত ও তার নাকের ভেতর গজ ব্যান্ডেজ দেওয়া ছিল। এরপর তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, রাতেই তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে৷ সকালেও মাথার সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে৷ তাতে দেখা গেছে তার মাথায় আঘাত রয়েছে। এছাড়া নাকের হাড় ও ডান চোয়ালের হাড়ও ভেঙে গেছে। মাথার ভেতর রক্তক্ষরণ হলেও তা অতিসামান্য। তার চোখ, মুখ ফোলা রয়েছে।
সকালে নিউরোসার্জারি বিভাগ, নাক-কান-গলা বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, ক্যাজুয়েলটি বিভাগের চিকিৎসকসহ মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে তার কোনো অস্ত্রোপচার লাগবে না বলে মনে করছে বোর্ড। এখনও তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার জন্য মিটিংয়ে বসার কথা রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
গণঅধিকার পরিষদ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে জাপা বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে জাপার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়ান। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান।
জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।