এইচ এম আবু বকর সিদ্দিক-বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি (পটুয়াখালী), ২৬ আগষ্ট ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পটুয়াখালীর বাউফ‌লে উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩‌টি তালা লা‌গি‌য়ে বন্ধ ক‌রে দেয়া হ‌য়ে‌ছে। গত সোমবার ক্লাস শে‌ষে ৩ব‌্যা‌ক্তি ৩‌টি তালা লা‌গি‌য়ে দেন। ফ‌লে বন্ধ র‌য়ে‌ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

 

অ‌বিভাবক ও শিক্ষা‌র্থীরা জানান, গত সোমবার ক্লাশ শেষ ক‌রে যথারী‌তি ছু‌টি দেয়া হয়। প‌রের দিন মঙ্গলবার সকা‌লে প্রতিষ্ঠা‌নে এসে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখ‌তে পান লাইব্রেরী‌ ভব‌নে অপর আরও ২‌টিসহ মোট ৩‌টি তালা ঝুল‌ছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মাসুম‌বিল্লাহ তালাবদ্ধ ক‌রে রে‌খে যান  এডহক ক‌মি‌টির সভাপ‌তি খা‌লিদ সাইফুল্লাহ ওই তালার উপ‌রে আরও এক‌টি তালা লা‌গি‌য়ে দেন এরপর সা‌বেক ভারপ্রাপ্ত সুপার ন‌জির উদ্দিন আরও এব‌টি তালা লা‌গি‌য়ে দেন। এঘটনায় সকাল থে‌কে ২পক্ষের ম‌ধ্যে ব‌্যপক উত্তেজনা ও বাক‌বিতন্ডার সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

 

ভারপ্রাপ্ত সুপার মো: মাসুম বিল্লাহ ও শিক্ষক কর্মচারীগণ অভিযোগ করে বলেন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একটি চিঠির আলোকে নজির উদ্দিন মৃধাকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির  গাজী। তিনি দায়িত্ব পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। নজির মৃধা দায়িত্ব পালনে অদক্ষতার প্রমাণ দেন এবং তার ছেলে  ইমরান হোসেন ছায়া সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের সকল কাজে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে থাকেন। শিক্ষক কর্মচারীগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সহকারী মৌলভী মোঃ মাসুম বিল্লাহকে গত ১ জুলাই ভারপ্রাপ্ত সুপার এর দায়িত্ব দেন। কিন্তু নজির মৃধা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে আওয়ামীলীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মো: খালি সাইফুল্লাহকে সভাপতি করে  গত ২ জুলাই এডহক কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা বোর্ডে জমা দিয়ে ঐদিনই   বোর্ড থেকে অনুমোদন করিয়ে নেন । বিতর্কিত উক্ত এডহক কমিটি বাতিলের জন্য মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।  মাদ্রাসা বোর্ড থেকে  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। যার তদন্ত এখনো চলমান। একটি প্রতিষ্ঠানে সভাপতি ও সাবেক ভাই প্রাপ্ত সুপার কোনক্রমেই তালা দিয়ে বন্ধ করতে পারে না। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির উদ্দিন মৃধা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।তবে সভাপতির সাথে যোগাযোগ করে তার কোন বক্তব্য  পাওয়া যায়নি।

 

একা‌ডে‌মিক সুপারভাইজার মোঃ নুরুন্নবী ব‌লেন, বিষ‌য়‌টি আমি জে‌নে‌ উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ম‌হোদ‌য়কে জা‌নি‌য়ে‌ছি। তিনি এব‌্যপা‌রে ব‌্যবস্থা গ্রহণ কর‌বেন।

 

উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম ব‌লেন, বিষয়‌টি জানার প‌রে উভয় পক্ষকে ডে‌কে‌ছি। তদন্ত ক‌রে ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে।