তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ০৯ আগষ্ট ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি উদযাপন কমিটি রাঙামাটি সদর পৌরসভা মাঠ প্রাঙ্গনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৫ পালিত হলো।
প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি উপ-সবিচ (অব:) প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, উদ্বোধক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি শিশির কান্তি চাকমা, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বাংলাদেশ তংচঙ্গ্যা কল্যান সংস্থার সভাপতি বিশ্বজিৎ তঞ্চঙ্গ্যা, থুয়াইপ্রু খিয়াং।এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের (পার্বত্য অঞ্চল) ইন্টু মনি তালুকদার।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, দেশের কোন জাতি-গোষ্ঠীকে পিছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের শত্রু ভাবা হলে কিংবা সে রকম আচরণ করা হলে এটা কখনও এ দেশের জন্য মঙ্গল হবে না। আপনারা বুঝবেন সেই আচরণের প্রতিফলনের পরিণতি কি হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ, আমরা আদিবাসীর অধিকার চাই। বাংলাদেশের সংবিধানে আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। এ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের ব্যাপার। বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠীর ব্যাপার। আপনারা বড় জাতি হিসেবে কতটুকু মানুষ, আপনাদের কতটুকু মানবতা আছে সেটি প্রমাণ করবে আমাদের পাহাড়িদের কতটুকু আপন হিসেবে নিবেন এবং অধিকার দেবেন। আমাদেরকে জড়িয়ে ধরে নেন, আমাদেরকে দূরে ঠেলে দিবেন না। আমরাও তো বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা ভিন দেশী নই। আমরা সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত অনেক সরকার এলো আর গেল, কিন্তু আমাদের জুম্মদের স্বার্থ ও অধিকারের বিষয়ে কোন সরকার কোন কিছুই করেনি। তাই নিজেদের অস্থিত্ব, আত্মপরিচয়ের অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতির অধিকার ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান ।
এরপর আলোচনা সভা শেষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে শত শত আদিবাসী লোকজন তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে বাঁশি, তাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিভিন্ন চাকমা গান, উবগীত গেয়ে অংশগ্রহণ করেন।
পরে র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।