ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২১ জুন ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা এখন ভয়ংকর অবস্থার রূপ নিচ্ছে। সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল শুধু সামরিকভাবে নয়, অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কূটনৈতিকভাবেও বড় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইরান আবারও দখলদার ইসরায়েলি ভূ-খণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তেহরানের অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি-এর ১৮তম ওয়েভে টার্গেট হয়েছে তেলআবিব। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৬টার দিকে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

 

দক্ষিণে হুলোনের একটি ভবনে হয় বড় ধরনের বিস্ফোরণ। এতে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। উত্তরে নেতানিয়া থেকে দক্ষিণে আশদোদ, রাজধানী তেলআবিবসহ মধ্যাঞ্চলে শোনা যায় সাইরেনের আওয়াজ। তেলআবিবের দাবি, তেহরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি মিসাইল ঠেকিয়েছে তারা। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল থাকার দাবি করেছে দুই দেশই।

 

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে আইডিএফ। ক্ষেপণাস্ত্র হানার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং কোথায় আঘাত হানতে পারে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধ হলে কূটনৈতিক আলোচনা বিবেচনা করা হতে পারে। শুক্রবার জেনেভায় ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ মন্তব্য করেন।

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলকে বিমান হামলা কমাতে চাপ দেওয়ার সম্ভাবনা এখন কম। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় এখনই সেই অনুরোধ করা খুব কঠিন।”

 

অন্যদিকে, আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির দাবি করেছেন, ইরানে হামলার জন্য ‘বছরের পর বছর’ ধরে পরিকল্পনা চলছিল। সম্প্রতি তা আরও গোপনে এবং দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান হাইফাসহ বেশ কিছু ইসরায়েলি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হাইফার হামলায় এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।

 

আইডিএফ জানায়, সর্বশেষ ইরান ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে, তবে এতে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলে কেউ হতাহত হয়নি।

 

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, “এই সংঘাতের বিস্তার এমন এক আগুন জ্বালাতে পারে, যা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।”