পাথরঘাটা (বরগুনা), ১৬ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বরগুনার পাথরঘাটায় দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এ সময় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
কিশোর গ্যাং নির্মূলের বিষয়ে ওসিকে উদ্দেশ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে না পারলে আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম। কিশোর গ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনো কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’
চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, পাথরঘাটায় চাঁদাবাজির কোনো জায়গা নেই। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওসি থাকবেন, নাকি চাঁদাবাজেরা থাকবে—সেটি নির্ধারণ করতে হবে। পাথরঘাটায় সন্ত্রাসী ও দখলবাজদের থাকতে দেওয়া হবে না।
চিফ হুইপ আরও বলেন, তার নাম ব্যবহার করে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন বর্তমানে পলাতক। আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে ওসিকে নির্দেশ দেন তিনি। তার ভাষায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নেই, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তার নাম ব্যবহার করে কেউ দখলবাজি করলে তাকে মুঠোফোনে বার্তা দিয়ে জানাতে হবে। তিনি রাতে বার্তা দেখেন। কোস্ট গার্ডের সোর্সদের সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাদের গ্রেপ্তার করানো হবে। থানায় দালালিও বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলিং ট্রলার নিয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, রাত ১২টার পর ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে ট্রলিং শুরু হয় এবং বরফকল চালু হয়। বাংলাদেশের অন্য কোথাও ট্রলিং হলেও পাথরঘাটায় তা হতে দেওয়া হবে না। পাথরঘাটায় যারা এখনো ট্রলিং করেন, তাদের এ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ও তাদের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবেন। চরাঞ্চলের জেলে ও কৃষকের দুর্দশা দূর করা, তাদের স্বাবলম্বী করা, দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো তার ভাবনায় রয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, সেই ভাবনা থেকেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সারা দেশের কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply