শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগপুত্র আর্যবীর, খেললেন ১৭৩ রানের ইনিংস

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের সেই ভয়ংকর রূপ আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে বাউন্ডারি সীমানা ছাড়া করাই ছিল যার মূল লক্ষ্য। সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ছাপ এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে শেবাগপুত্র আর্যবীরের খেলায়। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনূর্ধ্ব-১৯ ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের এক অসাধারণ ইনিংস উপহার দিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন সবার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে। বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য।

চলমান এই টুর্নামেন্টের এলিট পর্ব শুরু হয়েছে গত ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ম্যাচে আর্যবীর নিজের নামের পাশে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা যোগ করেন। শুধু চার ও ছক্কার মার থেকেই তিনি তুলেছেন ১২৪ রান। তাঁর এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে দিল্লি নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে। ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি দিল্লির স্কোরকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। ম্যাচে চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ যাদব ২ উইকেট তুলে নেন। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

দিল্লি দলের অধিনায়ক হিসেবে আর্যবীরের এবারের যাত্রা অবশ্য শুরুটা মসৃণ ছিল না। এর আগে কর্ণাটকের বিপক্ষে ম্যাচে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে, যেখানে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে তিনি জ্বলে উঠেছেন। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লিকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। প্রথম উইকেটে ৯৮ রান যোগ করার পর অর্নব ৪৭ রান করে আউট হন। এরপর উইকেটকিপার অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৪৮ রান এবং শান্তনু যাদবের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়েন আর্যবীর। অভিরাজ ১৮ ও শান্তনু ২৭ রান করেন। তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান।

উল্লেখ্য যে, আর্যবীরের প্রতিভা হঠাৎ করে সামনে আসেনি। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয় তাঁর। সেসময় তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে তিনি মোট ১০৯ রান করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে ভারত ৭ রানে জয় পায় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। সিরিজের শেষ ম্যাচে তিনি করেন ৩৪ রান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এর আগে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন।

এদিকে ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী মন্তব্য করেছেন, ভারত ২-৩ কোটি ডলার আয় করলেও আমরা সে তুলনায় কিছুই পাচ্ছি না। মাঠের বাইরের এই হিসাব-নিকাশ যখন ক্রিকেট বিশ্বে চলছে, তখন মাঠের ভেতরে আর্যবীরের মতো তরুণরা নিজেদের বীরত্ব দেখিয়ে ক্রিকেটের উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর