শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা আজ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ সময় দেখুন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত শনিবার পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তবে কেন্দ্রে প্রবেশের পর ওএমআর (OMR) শিট বিতরণের প্রায় দুই মিনিট পরই হঠাৎ পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে যশোরের এম এম কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া ফেরদৌস জানান, দূরদূরান্ত থেকে শত আশা নিয়ে আসার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে কাগজ দেওয়ার পর এমন সিদ্ধান্তে তারা অত্যন্ত হতাশ হন।

পরীক্ষা বাতিলের পরপরই রাজধানীর মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাত মসজিদ রোডসহ একাধিক এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়ানোর বিষয়টি আগেই আলোচনায় এলেও কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর বাতিলের খবর জানানো হয়। ফলে তাদের যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার যাবতীয় খরচ অপচয় হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা প্রায় তিন লাখ প্রার্থীর এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ কে বহন করবে? এতে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার খরচসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েন প্রার্থীরা। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াত, থাকা ও খাবারের জন্য করা ব্যয়ও তাঁদের কাছে অনিশ্চিত ক্ষতিতে পরিণত হয়।

বিষয়টি নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানান, পরীক্ষার আগেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রশ্নের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের কিছু অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্রের সততা বজায় রাখতে ও অনিয়ম এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরির ১১তম গ্রেডের এই সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্য পদ রয়েছে। এই পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। সেই হিসাবে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে লড়াই করছেন প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থী। ২৪২ পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন।

চাকরির বাজারে সরকারি পদের জন্য তুমুল প্রতিযোগিতা থাকায় পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। বিশেষ করে দূরদূরান্তের কেন্দ্রগুলোতে আসার জন্য যাতায়াত ও আবাসনের খরচ করতে হয়। এ কারণে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হলে আবেদনকারীদের যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, তেমনি সময় ও মানসিক প্রস্তুতিরও বড় ধরনের অপচয় ঘটে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর