বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরামকোর ভবনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনটির অফিস টাওয়ারে আগুন লেগে যায় এবং ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার গভীর রাতে এই হামলার পরপরই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া আরামকোর একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কমপ্লেক্সের ভেতর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। এর পর দেশজুড়ে আরও হামলার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরামকোর এই কমপ্লেক্সটি কোম্পানির বিশাল তেল অবকাঠামো নেটওয়ার্ক—যার মধ্যে শোধনাগার, পাইপলাইন, তেল উত্তোলনকেন্দ্র ও রপ্তানি টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত—পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই হুতিরা টানা এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। এর আগে শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যা গত এক দশকে দেশটির মাটিতে চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। আরামকোর ওই কমপ্লেক্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র আছে। সৌদি আরবে তেলশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদেরও সতর্ক করেছে হুতিরা।

সৌদি আরবের আকাশসীমায় একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সেগুলো প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষে ১৫টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। ধাহরানেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যেসব স্থাপনায় হামলা হতে পারে, সেগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এর আগেই ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর এবং রিয়াদের তেল শোধনাগারকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এর পাল্টা জবাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানার উপকণ্ঠে অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশনে হামলা চালায়। হুতি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্যমতে, হুতিদের সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হুতিদের বারবার হামলার পরিণতি ভোগের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। হুতিদের লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা থেকে হটিয়ে দিলেও তারা তাইজ শহরের আশপাশে এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মিত্রদের কাছ থেকে আরও ব্যাপক সহায়তা চাইলেও, সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ গুরুত্ব বেড়েছে।

ইয়েমেনের এই সংঘাত বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত। বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান হুতিদের সাথে রিয়াদের বিরোধ মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর