মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

মশার মানহীন ওষুধ ফেরত দিচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ সময় দেখুন

পরীক্ষায় সন্তোষজনক কার্যকারিতা না পাওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কেনা দুই হাজার লিটার মশার লার্ভিসাইডের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংগৃহীত এই ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকার মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজ কেসিসিকে দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) সরবরাহ করে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কমিটি ওই ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরীক্ষা চালানোর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও লার্ভার মৃত্যুর হার মাত্র ১২ শতাংশ পাওয়া যায়। কার্যকারিতার এই নিম্নমান বিবেচনা করে কমিটি ওষুধটি গ্রহণের অনুপযোগী হিসেবে প্রতিবেদন দেয়, যার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি কেসিসি মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা মারতে মোট ৫৬ লাখ টাকার লার্ভিসাইড এবং ৮৪ লাখ টাকার তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড কিনেছিল।

তবে কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান গাজী জানান, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাননি। কেসিসির পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের পরীক্ষার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না খেয়ে পরে তা কার্যকর নয় দাবি করার মতো ঘটনা ঘটেছে এখানে। তারা পুনরায় পরীক্ষার আবেদন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

মানহীন ওষুধ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নতুন করে লার্ভিসাইড কেনার পদক্ষেপ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই নতুন চালান আসার কথা রয়েছে।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, সাধারণ বাজারে লার্ভা নিধনের ওষুধের প্রতি লিটারের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে প্রতি লিটার কিনতে খরচ পড়বে সাড়ে চার হাজার টাকার মতো। তিনি স্পষ্ট করেন, আগের কেনা লার্ভিসাইডটি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় বিদ্যমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির সুরক্ষায় দ্রুত নতুন এই ওষুধ আনা হচ্ছে এবং সরবরাহ পাওয়ার পর এরও মান পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া সভায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে দৈনিক দুই শিফটে চার ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অন্যদিকে, উড়ন্ত মশা নিধনে আনীত নতুন ওষুধ ‘সাইপারমেথ্রিন’-এর মান যাচাইয়েও পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগর ভবনের গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশক বিশেষজ্ঞ, সংবাদকর্মী ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পর্যবেক্ষণকালে জানান, মশারির ভেতরে মশা রেখে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এটি ব্যবহারে নেওয়া হবে নাকি বিকল্প ভাবা হবে। প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রী তিন মাসের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, যার প্রথম মাস ইতিপূর্বে পার হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর