সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয় যে ধ্বনি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ সময় দেখুন

ইসলামি শরীয়তে ‘আল্লাহু আকবার’ বাক্যটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ একটি ধ্বনি। এটি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, বড়ত্ব ও মহিমার ঘোষণা। একই সঙ্গে এই পবিত্র ধ্বনিটি মানুষের জীবনে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম। শয়তানকে পরাস্ত করতে এবং তাকে দুর্বল ও অসহায় করে তুলতে এই ধ্বনির বিশেষ প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন ধর্মীয় দলিলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ইকামত শেষ হলে সে আবার ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। আজান শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের দরকার নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ১১১)। এই আয়াতের প্রেক্ষিতেই মুমিনরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করতে ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করেন, যা শয়তানের জন্য অসহনীয় ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস থেকে আজান ও শয়তানের সম্পর্ক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। বর্ণিত আছে, যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান এই আজানের শব্দ শুনতে না পাওয়ার জন্য হাওয়া ছেড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এভাবে আজানের ধ্বনি শুনে শয়তান এতটাই ভীত ও দুর্বল হয়ে পড়ে যে, ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করতে সে ব্যর্থ হয়। সাহাবিদের বর্ণনায়ও এমন পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে শয়তানের লাঞ্ছনাকর অবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। ফলে সে শুধু পালিয়েই যায় না, বরং এমন এক অবস্থায় পালায়, যা তার চরম লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। এটি যেন ঈমানের এমন এক শক্তি, যার সামনে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ভেঙে পড়ে।

হাদিস বিশারদ ও বুখারি শরীফের বর্ণনায় দেখা যায়, শয়তান ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে। যেমন, কোনো মানুষ কত রাকাত নামাজ পড়েছে তা যেন ভুলে যায়, সেজন্য শয়তান নানা প্ররোচনা দেয় (বুখারি, হাদিস ৬০৮)। কিন্তু যখন মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মানুষকে ইবাদতের জন্য ডাক দেন, তখন শয়তানের সব চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যায়। আজানের সেই পবিত্র ধ্বনি শয়তানকে নিস্তেজ ও অসহায় করে ফেলে। ফলে আজান শয়তানের বিরুদ্ধে মুমিনের অন্যতম শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে, যা মানুষকে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হতে সহায়তা করে। তার কাজই হলো মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা, মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেষ্টা করা, জাহান্নামের পথে পরিচালিত করা। তাই যে সমাজে নিয়মিত আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ‘আল্লাহু আকবার’- দুই শব্দের এ বাক্যটি মুমিনের জীবনে এক বিশাল শক্তির উৎস। তাকবির মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একমাত্র আল্লাহই সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে মহিমান্বিত, সব কিছুর ওপর একমাত্র ক্ষমতাধর।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর