মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকের মোবাইল জব্দ : এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৩ সময় দেখুন

মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ, গালিগালাজ, মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া এবং বেআইনিভাবে থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সদর থানার এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাতীয় দৈনিক জাগরণ প্রতিদিন-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ইমরান মাহমুদ।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া অভিযোগে সাংবাদিক ইমরান মাহমুদ উল্লেখ করেন, একটি মামলার তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে এসআই সোহেল মাহমুদ তার সঙ্গে অসদাচরণ ও অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে এসআই সোহেল মাহমুদ জোরপূর্বক তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। পরে তাকে প্রায় ৩০ মিনিট থানায় আটক অবস্থায় রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক। এতে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সাংবাদিক ইমরান মাহমুদ আরও দাবি করেন, একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাংবাদিক কোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য থানায় গেলে তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে, সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তদন্ত ছাড়াই বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার বিষয়ে ধারণ করা ভিডিওতে এক নারীকে পুলিশি তদন্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, এসআই সোহেল মাহমুদ তার কাছ থেকে কোনো সাক্ষ্য বা জবানবন্দি নিয়েছেন কি না।

জবাবে ওই নারী বলেন, পুলিশ শুধু তার নাম, স্বামীর নাম এবং তিনি কী করেন—এ ধরনের তথ্য জানতে চেয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিওতে ওই নারীকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাড়িতে এসে এবং গাড়িতে ওঠার সময় টাকা দিতে তিনি দেখেছেন। ওয়ারেন্ট বন্ধ করা এবং মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন বলেও জানান। প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করলেও পরে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান ওই নারী। তার ভাই মাহিনের নামও সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ঘটনায় অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, কোনো সাক্ষীর কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না নেওয়া হয়ে থাকলে তদন্ত প্রতিবেদনে ওই সাক্ষীর বক্তব্য কীভাবে এসেছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ও উঠেছে
অভিযোগপত্রে সাংবাদিক ইমরান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গিয়ে যেন সাংবাদিককে হয়রানি, হুমকি, অসদাচরণ বা অন্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করা না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে ওই অভিযোগের সত্যতা, এর পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং মোবাইল ফোন জব্দ করার আইনগত ভিত্তি কী ছিল—এসব বিষয়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যেহেতু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে এসআই সোহেল মাহমুদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সাংবাদিক ইমরান মাহমুদ তার অভিযোগে ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

এখন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তদন্তে অভিযোগগুলো কতটা সত্যতা পায় এবং এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর