আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই এ বছর বাম্পার ইরী ধানের আবাদ হয়েছে। আশা জাগানিয়া স্বপ্ন নিয়ে বিভোর ছিল এলাকার কৃষক। গত ১৫ এপ্রিলেরর পর থেকে অদ্যবধি প্রায় প্রতিদিনের প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির পানি সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে অত্র এলাকার কৃষকের স্বপ্নের ইরী চাষে।
এবারের ইরী মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। আবাদের পরিমানও ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী। শুধু ঝড়-তুফান আর অকাল বন্যায় যে
এত ক্ষয়-ক্ষতি হবে তা কারও ধারণাও ছিল না। শুধু ইরী ধান নয়, অন্যান্য শষ্য গম ভূট্টারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যা অপূরণীয়।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ের কারণে ধানের শীষে চিটা হলেও ফসল হয়েছে বাম্পার।আমাদের দেশে ইরী ধান চাষ করাকে নিয়ে কত স্বপ্ন আশা ছিল এলাকার কৃষকদের অথচ এই ইরী চাষের শুরুতেই ছিল কত রকমের বিভ্রান্তি।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আই আর ডি পি একটা প্রজেক্ট ছিল – এখন বিআরডিপি। দেশের কিছু উৎসাহী চেয়ারম্যানদের ইরী ধান চাষের অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে তৎকালীণ কিছু সংখ্যক আইআরডিপি’র চেয়ারম্যানদেরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৪ সালে। পীরগঞ্জ থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
মরহুম আবু হোসেন সরকার ছিলেন ঐ টিমে। প্রায় ৯ মাস প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা দেশে ফিরে এসে কৃষকদের ইরী চাষ করার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করেছিলেন।
” সেচা পানি, মিছা কথা। ”
” ইরী ধানের ভাত ফ্যাসফ্যাসা লাগে ”
এ রকম নানান কথা বলতো পীরগঞ্জের কৃষকেরা। ধীরে ধীরে সেই ইরী চাষ বাংলাদেশে এখন প্রতিষ্ঠিত আবাদে পরিণত হয়েছে যার মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটেছে এদেশে।
“এ মৌসুমের ক্ষতিও একদিন পূরণ হবে- আমরা ইরী ধান আবাদ করে স্বয়ংসম্পন্ন হতে পেরেছি, খাদ্যে পরনির্ভরশীলতা কমাতে পেরেছি এটাই বা কম কিসে? ” জানালেন কৃষক জয়নাল আবেদীন, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া পাঁচ একর জমির ফসল পানির নীচে ডুবে যাওয়ায় তিনি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও
সাধুবাদ জানান – সেই সকল সৈনিকদের, যাদেরকে বঙ্গবন্ধু সরকার রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন ইরীচাষ প্রশিক্ষণের জন্য। তাঁরা কঠোর পরিশ্রমে ইরী চাষ এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
Leave a Reply