আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি শিল্পকারখানায় ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ (ছোট ট্রাক) উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ৩নং বড় দরগাহ ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামে অবস্থিত ‘রংপুর কেমিক্যাল লিমিটেড’ কারখানায় গত ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিট থেকে ১২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে ১৪-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা কারখানার নাইটগার্ডদের জিম্মি করে ডাকাতির চেষ্টা চালায়।
এ সময় খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা তাদের সঙ্গে আনা দুটি পিকআপযোগে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর কারখানার মালিকের প্রতিনিধি হাবিবুল ইসলাম রুহুল বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৩২, তারিখ: ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি., ধারা ৩৯৮/৩৯৯/৪০২, পেনাল কোড ১৮৬০।
পরে রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুশান্ত চন্দ্র রায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে।
কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক দল পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিন অভিযান চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে ঢাকা জেলার সাভার থানার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে চারজন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুর থানার এনায়েতপুর এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রুবেল রানা (২৭), সিরাজগঞ্জ; মানিক (২৮), বগুড়া (তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে); ইব্রাহিম (২৫), খুলনা (৪টি মামলা); শফিকুল ইসলাম (২৫), পিরোজপুর (২টি মামলা); সাইমুন আমিন শুভ (২৬), খুলনা (১টি মামলা) এবং সোহাগ মিয়া (২২), চাঁদপুর।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ প্রশাসন গণমাধ্যমের মাধ্যমে রংপুরসহ দেশবাসীকে জানায়, যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে।
Leave a Reply