বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

এ দেশের কৃষক যদি ভালো ও সুখে থাকে, তাহলে দেশের সমগ্র মানুষ ভালো থাকবে : টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৯ সময় দেখুন

টাঙ্গাইল, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পহেলা বৈশাখের দিনে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের কৃষক যদি ভালো ও সুখে থাকে, তাহলে দেশের সমগ্র মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক সচ্ছল থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিলেও এর শিকড় আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষকদের হালখাতা ও হিসাব নিকাশের মাধ্যমেই এই উৎসবের শুরু। তাই এই দিনটিতেই আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করলাম।

কৃষিঋণ মওকুফ ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এটি সরকারের একটি বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।

টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের নায্য মূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে স্বাবলম্বী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। কৃষকের পাশাপাশি মা-বোনদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার বদ্ধপরিকর।

বক্তব্যের শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশ গড়ার ডাক দিয়ে বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতিতেই আমরা পথ চলছি। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।

এর আগে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১২টা ২০মিনিটে বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি। টাঙ্গাইলের এই আয়োজন থেকেই সারা দেশের ২০ হাজার বেশি কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর