সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং মাজারের পীরকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মাওলানা মামুনুল হক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে একটি ‘আস্তানায়’ হামলা চালিয়ে ‘পীর’কে কুপিয়ে হত্যা করে কিছু লোক। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে মামুনুল হক বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে বিশৃঙ্খলা, প্রতিশোধপরায়ণতা ও অনাস্থা তৈরি করে, যা একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে দেশের বৃহৎ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে সমষ্টিগতভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের একটি অপপ্রয়াস চলছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় গোটা ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো অন্যায়, অযৌক্তিক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী।’’ তিনি এ ধরনের পক্ষপাতমূলক ও উসকানিমূলক শব্দচয়ন পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আমিরে মজলিস বলেন, ‘এ ধরনের সহিংস ঘটনার পেছনে অনেক সময় স্থানীয় রাজনীতি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কুষ্টিয়ার এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এসব দিককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।’

সরকার ও আলেমসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক, অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বিদ্যমান, যা জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্য ইসলামিক স্কলারদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যালোচনা কমিশন গঠন করে এসব বিষয় নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

কিছু মহল এই ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলেও অভিযোগ মামুনুল হকের। তিনি এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশকে বিভাজন ও উত্তেজনার রাজনীতি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর