মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

দাউদকান্দিতে তেল শেষ হয়ে মাঝপথে থামল আল-আরাফা বাস

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন

মোঃ নাঈম সরকার রিফাত-দাউদকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি (কুমিল্লা), ০৬ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকায় জ্বালানি তেল শেষ হয়ে মাঝপথে থেমে গেছে আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা যাত্রীরা দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

জানা গেছে, বাসটি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাত্রাপথে উল্লিখিত এলাকায় পৌঁছালে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। ফলে চালক বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বাসটি থামিয়ে দেন।

ঘটনার পরপরই চালক ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান না পাওয়ায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় এবং সময় নষ্ট হয়।

বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলেন, কিন্তু মাঝপথে এভাবে আটকে পড়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। এ সময় পুলিশ জানায়, বাসটি তাদের হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, একদিকে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে নির্দিষ্ট এই সড়কে আল-আরাফা পরিবহনের বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাসটি চলাচল করছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার থেকে এ রুটে আল-আরাফা পরিবহনের বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর পরও সোমবার বাসটি চলাচল করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিয়ম ভঙ্গ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে পুলিশ বাসটি নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় সড়কে যান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় অন্যান্য যানবাহনের গতি কমে যায় এবং সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রীবাহী বাস রাস্তায় নামানোর আগে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে চলা পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু এ ঘটনায় দুই দিকেই অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে—একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাস পরিচালনা।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর