রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

রাঙামাটিতে জ্বালানি হাহাকার : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ এখন পাহাড়ের পাম্পে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ০৭ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): “আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে। আজ ৭ই মার্চ শনিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে মোটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং খোলা ড্রাম বা সিলিন্ডার হাতে মানুষের অভূতপূর্ব ভিড়। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে।

​বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাঙামাটির তবলছড়ি, বনরূপা এবং কলেজ গেট এলাকার প্রধান পাম্পগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে বাংলাদেশ সময়মতো জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না। ফলে দেশে ডিজেল এবং পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার গত দুই দিন ধরে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

রাঙামাটির দুর্গম এলাকাগুলো থেকে আসা মানুষ জ্বালানি সংকটে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন। মোটরসাইকেল আরোহীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তেল পাচ্ছেন না। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন যে, নির্ধারিত কোটার চেয়ে অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে। তেলের সংকটে পাহাড়ের দুর্গম পথগুলোতে যাতায়াতকারী জিপ (চাঁদের গাড়ি) ও অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে।

অনেকে মনে করছেন, ডিলাররা দাম আরও বাড়ার আশায় জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার (Panic Buying) অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের শঙ্কা, বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সামনের দিনগুলোতে জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর