ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৭ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে তৃতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ২টার দিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের প্রভাবে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে তেহরান। এরপর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় শুধু ইসরাইলই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ২২তম ধাপ হিসেবে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। এতে খোররামশাহর–৪, খাইবার এবং ফাত্তাহ শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত হামলায় মূলত এক দশকের পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে দেশটির নতুন প্রজন্মের উন্নত অস্ত্র এখনো সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
Leave a Reply