মোহাম্মাদ নাদের-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি (ইউএসএ), ০৫ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে পোর্ট শুয়াইবা–এর একটি বাংকারে আঘাত হানে।
প্রাথমিকভাবে তিনজন সেনার নিহতের খবর পাওয়া গেলেও পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুইটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা ছয় হয়। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী চারজন সেনার নাম প্রকাশ করেছে। তারা সবাই ইউএস আর্মি রিজার্ভ–এর সদস্য।
নিহতরা হলেন-
ক্যাপ্টেন কোডি খর্ক (৩৫)
সার্জেন্ট নোয়া টিটজেন্স (৪২)
সার্জেন্ট নিকোল আমর (৩৯)
সার্জেন্ট ডেকলান কোয়াডি (২০)।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয়জনের মধ্যে ষষ্ঠ সেনা হলেন রবার্ট এম মারজান (৫৪)। তিনি চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার–৩ পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। মারজানের পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
হামলায় নিহত সেনারা সম্ভবত একটি ড্রোন আক্রমণে মারা গেছেন। তারা একটি অস্থায়ী অফিসে কাজ করছিলেন। অফিস হিসেবে একটি ট্রেলার ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা চারপাশে ১২ ফুট উঁচু ইস্পাত-সংবলিত কংক্রিটের দেয়াল দ্বারা ঘেরা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কুয়েতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে ১৩ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
একই সময়, কুয়েতে এক আলাদা ঘটনার সময় ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’–এ তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। পাইলটরা নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের সেনাবাহিনী বিমানগুলো ভূপাতিত করেছে, তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।
গত রবিবার পোর্ট শুয়াইবার মার্কিন কমান্ড সেন্টারে আঘাত হানায় ছয়জন সেনা নিহত হন, যা এ পর্যন্ত নিশ্চিত একমাত্র প্রাণহানি হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে।
Leave a Reply