শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

পিএসজিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতলো বায়ার্ন মিউনিখ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ২৫ সময় দেখুন

কিংসলে কোম্যানের একমাত্র গোলে ফাইনালে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইকে (পিএসজি)১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে ষষ্ঠবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। লিসবনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৫৯ মিনিটে জসুয়া কিমিচের ক্রসে পিএসজির সাবেক খেলোয়াড় কোম্যান বায়ার্নকে জয় ও শিরোপা দুটোই উপহার দেন। বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পর এটি মৌসুমে বেভারিয়ান্সদের তৃতীয় শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বায়ার্ন। অন্যদিকে প্রথমবারের মত ফাইনালে ওঠার স্মৃতিটা মধুর করে রাখতে ব্যর্থ হলো পিএসজি।

লিসবনের এস্তাদিও ডা লুজের দর্শকশুন্য স্টেডিয়ামে পিএসজিও গোলের কম সুযোগ পায়নি। কিন্তু নভেম্বরে নিকো কোভাচের স্থলাভিষিক্ত হান্সি ফ্লিকের অধীনে বায়ার্ন যেন রক্ষন-আক্রমন উভয় বিভাগেই অপ্রতিরোধ্য ছিল। স্কাই জার্মানীকে ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেছেন, ‘আমি এই দলের জন্য সত্যিই গর্বিত। নভেম্বরে আমি যখন শুরু করেছিলাম তখন চারিদিকে শুধু ব্যর্থতার খবরই ছিল। কিন্তু যেভাবে দল নিজেদের উন্নতি করেছে তা এককথায় অসাধারণ। পিএসজির আক্রমনভাগ খুবই শক্তিশালী। কিন্তু ফাইনালে জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’

যদিও ম্যাচের ভাগ্য ভিন্ন হতেও পারতো। বিরতির ঠিক আগে কিলিয়ান এমবাপ্পের শটটি সরাসরি বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের হাতে ধরা না পড়লে তখনই এগিয়ে যেতে পারতো পিএসজি। বিশ^কাপ জয়ী এই ফরোয়ার্ড কাল জিততে পারলে তার দল ১৯৯৩ সালে মার্সেইর পর দ্বিতীয় ফরাসি দল হিসেবে ইউরোপীয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারতো।

পিএসজি কোচ থমাস টাচেল ফ্রেঞ্চ ব্রডকাস্টার আরএমসিকে বলেছেন, ‘আমরা মাঠে সবকিছুই দেবার চেষ্টা করেছি। এটাই একটি দলের থেকে আশা করা যায়। কিন্তু ফলাফল নিয়ন্ত্রনের সুযোগ আমাদের ছিলনা।’

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্যে পিএসজির কাতারী মালিক নেইমার ও এমবাপ্পের পিছনে সব মিলিয়ে ৪০২ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু এই তিন বছরের কাঙ্খিত সাফল্য আসেনি।

প্যারিসে জন্মগ্রহনকারী কোম্যান পিএসজিতে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১৪ সালে জুভেন্টাসের পাড়ি জমান। ম্যাচ শেষে ফাইনালে জয়ের নায়ক কোম্যান বলেছেন, ‘এটা অন্যরকম এক অনুভূতি। আমি সত্যিই দারুন খুশী, যদিও প্যারিসের জন্য কিছুটা হলেও খারাপ লাগছে।’

লিঁওর বিপক্ষে সেমিফাইনালে এই উইঙ্গার বদলী বেঞ্চে ছিলেন। কিন্তু ফাইনালে মূল একাদশে সুযোগ পান। এখন তাকে হয়তোবা আর নিজ শহরে কখনই ভালভাবে স্বাগত জানানো হবে না।

২০১৩ সালে সর্বশেষ ইউরোপে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল বায়ার্ন। এই জয়ের মাধ্যমে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের সাথে সমান ছয়টি শিরোপার মালিক হলো জার্মান জায়ান্টরা। তাদের থেকে শুধুমাত্র এগিয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান।

টানা ২১টি ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে ফ্লিক বায়ার্নের কোচ হিসেবে সফল একটি মৌসুম শেষ করছেন। অপরাজিত থাকলেন ৩০টি ম্যাচে। দলের দুর্দান্ত এই পারফরমেন্স সমর্থকদের সামনে অর্জন করাটা তাদের প্রাপ্য ছিল। বেনফিকার মাঠে শ’খানেক আমন্ত্রিত অতিথি ‘ফাইনাল এইটের’ ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগের সুযোগ পেয়েছিলেন। অবশেষে করোনাভাইরাস পরবর্তী দীর্ঘ মৌসুম সুষ্ঠভাবে শেষ করতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে উয়েফা।

ইউরোপের এলিট এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলা দল দু’টির ইতিহাস অবশ্য কিছুটা হলেও ভিন্ন। জার্মান পাওয়ারহাউজ হিসেবে পরিচিত বায়ার্ন সব সময়ই যেখানে ইউরোপে নিজেদের আধিপত্য দেখিয়ে আসছে সেখানে ২০১১ সালে কাতারী মালিকের অধীনে দল চলে যাবার পর পিএসজির পুনরুত্থান ঘটেছে। কিন্তু মাঠ ও মাঠের বাইরে দুই দলই এখন সম্পূর্ণভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। আর সে কারনেই লড়াইয়ে পরিপূর্ণ একটি ফাইনালের আশাই সবাই করেছিল এবং হয়েছেও তাই। অভিজ্ঞতার নিরিখে বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও পিএসজিও ছেড়ে কথা বলেনি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে লিওয়ানদোস্কির নৈপুন্যে বায়ার্ন প্রায় এগিয়েই গিয়েছিলে। কিন্তু পোলিশ এই তারকার মৌসুমের ৫৬তম গোলের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। তার একটি হেড পিএসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস রুখে দেন। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষের দিকে পিএসজির অবশ্যই এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। নেইমারের শট নয়্যার রুখে দেবার পর ফিরতি বলে এমবাপ্পের শট সরাসরি বায়ার্ন গোলরক্ষকের হাতে ধরা পড়ে। বায়ার্নের অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা এমবাপ্পেকে বক্সের ভিতর পজিশন নিতে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এর আগে ২৫ মিনিটে আলাবার রক্ষনভাগের সতীর্থ জেরোম বোয়ার্টে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার স্থানে মাঠে নামেন দীর্ঘদেহী নিকলাস সুয়ের। প্যারিসের আক্রমনগুলো রুখে দিতে এই বদলী ডিফেন্ডার আলাবার সাথে ভালই সঙ্গ দিয়েছেন।

৫৯ মিনিটে থিয়াগো আলচানতারা হয়ে কিমিচের ক্রসে বাম দিকের আড়াআড়ি হেডে নাভাসকে পরাস্ত করেন কোম্যান। আর এই গোলেই বায়ার্নের জয় নিশ্চিত হয়। লিওয়ানদোস্কিকে ফাউলের অপরাধে হলুদ কার্ড পেয়ে ম্যাচ শেষ করেছেন নেইমার। বায়ার্ন যখন শিরোপা হাতে উচ্ছাস প্রকাশ করছিল তখন নেইমারসহ পুরো পিএসজিকে রানার্স-আপ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর